
ইরানের Proxy Warfare: হিজবুল্লাহ ও হামাসের ভূমিকা
ইরানের প্রক্সি কৌশল
হিজবুল্লাহ, হামাস, হুতি সহ বিভিন্ন গোষ্ঠীকে অর্থ, অস্ত্র, প্রশিক্ষণ দিয়ে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে তার প্রভাব বাড়ায়। এটি “ছায়াযুদ্ধ” কৌশল, যেখানে ইরান সরাসরি লড়াইয়ে না নেমে তাদের মাধ্যমে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সংঘাত জিইয়ে রাখে। ইরান প্রতিবছর হামাসকে ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা দেয়, যা দিয়ে অস্ত্র কেনা, মিসাইল তৈরি এবং প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়।
হিজবুল্লাহর ভূমিকা
১৯৮২ সালে লেবাননে ইরানের সহায়তায় হিজবুল্লাহ গঠিত হয়। তারা উত্তর ইসরায়েলে রকেট ও ড্রোন হামলা করে উত্তেজনা বাড়ায়। ২০২৬ সালের মার্চে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির মৃত্যুর পর “খায়বার ১” অপারেশনে হিজবুল্লাহ কিরিয়াত শমোনা, নাহারিয়া প্রভৃতি অঞ্চলে রকেট নিক্ষেপ করে। জবাবে ইসরায়েল বৈরুতে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় এবং তাদের কমান্ড সেন্টারের বড় অংশ ধ্বংস করে।
হামাসের ভূমিকা
হামাস সুন্নি হলেও ১৯৯০-এর দশক থেকে ইরানের অর্থ ও অস্ত্র পেয়ে আসছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের বড় হামলায় ইরানি সহায়তার গুরুত্ব দেখা যায়—প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন, ফজর-৫ রকেট এবং IRGC প্রশিক্ষণ। হামাস যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেও সংঘাত বজায় রাখে।
সংঘাত জাগানোর পদ্ধতি
ইরানের দুই প্রধান প্রক্সি—হিজবুল্লাহ (উত্তর ফ্রন্ট) এবং হামাস (দক্ষিণ ফ্রন্ট)—ইসরায়েলকে দুই দিক থেকে চাপে রাখে। রকেট হামলা, ড্রোন হামলা, টানেল-based গেরিলা আক্রমণ—সবই “Forward Defense Strategy”-র অংশ। ২০২৪–২০২৬ সালে ইসরায়েল হিজবুল্লাহর ৪৫% বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত করলেও তারা ইরানের নির্দেশে লড়াই চালিয়ে যায়।
সাম্প্রতিক ঘটনা (২০২৬)
২০২৬ সালের মার্চে ইরান–ইসরায়েল উত্তেজনা বাড়তেই হিজবুল্লাহ যুদ্ধে সক্রিয় হয়। ইসরায়েলে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র পড়ে এবং লেবাননে জবাবি বিমান হামলা হয়। একই সময়ে হামাসও যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে গাজা থেকে হামলা চালায়। এতে আঞ্চলিক যুদ্ধের শঙ্কা বাড়ে।
প্রভাব ও ভবিষ্যৎ বিশ্লেষণ
এই প্রক্সি সংঘাত লেবানন, গাজা ও ইসরায়েলে নাগরিকদের বাস্তুচ্যুত করছে। হাজারো মৃত্যু ঘটছে। ইরানের লক্ষ্য ইসরায়েলকে দুর্বল করা—অন্যদিকে ইসরায়েল এই নেটওয়ার্ক ভাঙার চেষ্টা করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কূটনীতি জরুরি, না হলে এটি বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
FAQ
১. কেন ইরান হিজবুল্লাহ ও হামাসকে সমর্থন করে?
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি এবং অঞ্চলে নিজের প্রভাব বাড়ানোর জন্য।
২. হিজবুল্লাহ কি ইরানের সামরিক শাখা?
আইনগতভাবে না, তবে বাস্তবে তারা ইরানের প্রক্সি সামরিক বাহিনী হিসেবে কাজ করে।
৩. হামাস কি শুধুই সুন্নি গোষ্ঠী?
হ্যাঁ, কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থে তারা ইরানের মতো শিয়া রাষ্ট্রের সহায়তা নেয়।
৪. ২০২৬ সালে সংঘাত কেন বৃদ্ধি পেল?
খামেনির মৃত্যু এবং ইরান–ইসরায়েল উত্তেজনার ফলে হিজবুল্লাহ সক্রিয় হয়ে ওঠে।
৫. এই সংঘাতে কারা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত?
সাধারণ মানুষ—লেবানন, গাজা ও ইসরায়েলের নাগরিকরা।
রেফারেন্স
- Bergman, R. (2018). *Rise and Kill First: The Secret History of Israel's Targeted Assassinations*. Random House.
- Nasr, V. (2006). *The Shia Revival*. W.W. Norton.
- Hiltermann, J. (2023). Middle East Proxy Conflicts Report. International Crisis Group.
- BBC News. (2023). Iran–Hamas financial and military links.
- Al Jazeera. (2024). Hezbollah–Israel border conflict timeline.
- United Nations Middle East Report (2025).
