শেখর দেবনাথের ২টি অনুপ্রেরণামূলক অণুগল্প | উৎসর্গ ও নোনাপাথর | অকপট অনুসন্ধান

0

 

শেখর দেবনাথের ২টি হৃদয়স্পর্শী অণুগল্প

লেখক: শেখর দেবনাথ

শেখর দেবনাথের উৎসর্গ ও নোনাপাথর অণুগল্পের প্রতীকী ফিচার ইমেজ


বিষয়সূচি (Click to Toggle)

    জীবনের গভীর সত্য, নীরব আত্মত্যাগ এবং মানুষের অদৃশ্য সংগ্রামকে অল্প কথায় ফুটিয়ে তোলাই অণুগল্পের মূল শক্তি। লেখক শেখর দেবনাথ তাঁর লেখায় কখনও দেশের সুরক্ষায় নিয়োজিত এক সৈনিকের আত্মনিবেদন, আবার কখনও সংসারের দায়িত্বে জর্জরিত এক সাধারণ মানুষের অসহায় বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন। এখানে প্রকাশিত দুটি অণুগল্প— 'উৎসর্গ' এবং 'নোনাপাথর'— মানবিক অনুভূতি ও জীবনের কঠিন বাস্তবতার এক অনন্য দলিল।


    ১. উৎসর্গ

    চারিদিকে উৎসবের আমেজ।

    হাসি, আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছে সবাই।

    ঠিক সেই সময় দেশের সীমান্তে দাঁড়িয়ে আছেন এক জওয়ান।

    তিনি উৎসবের অংশ নন, কারণ তাঁর কাঁধে শুধু একটি এ.কে.-৪৭ নয়, বহন করছেন দেশের প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা, হাসি, কান্না, আনন্দ আর স্বপ্নের দায়িত্ব।

    এই ভার তাঁকে ক্লান্ত করেছে, কিন্তু কখনও ভেঙে দিতে পারেনি।

    প্রতিকূল আবহাওয়া, ঝড়-ঝঞ্ঝা কিংবা শত্রুর হুমকি— সবকিছুকে উপেক্ষা করে তিনি অটল।

    একদিন এমনই এক উৎসবের দিনে লেখক সেই জওয়ানকে প্রশ্ন করেছিলেন—

    "সবাই যখন পরিবারের সঙ্গে আনন্দ করছে, তখন আপনাদের কষ্ট হয় না?"

    জওয়ানের উত্তর ছিল সংক্ষিপ্ত, অথচ গভীর—

    "আমরা তো আছি সকলের আনন্দকে নিরাপদ রাখার জন্য। এই পোশাক পরার দিন থেকেই সীমান্তই আমাদের পরিবার। এখানেই আমাদের সুখ-দুঃখ, ভালো লাগা আর ভালোবাসা।"

    গল্পের বার্তা

    একজন সৈনিকের আত্মত্যাগ শুধু তাঁর নিজের নয়, তাঁর পুরো পরিবারেরও। আমাদের প্রতিটি নিরাপদ সকাল ও আনন্দঘন উৎসবের আড়ালে লুকিয়ে থাকে সীমান্তে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য অজানা বীরের নীরব উৎসর্গ।


    ২. নোনাপাথর

    পুজো আসতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি।

    হাতে একটি ব্যাগ নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন নীহারবাবু।

    পেছন থেকে পরিচিত একজন ডাক দিলেন—

    — "কী দাদা! পুজোর বাজারে যাচ্ছেন বুঝি?"

    প্রশ্নটা শুনে হঠাৎ থমকে গেলেন নীহারবাবু।

    মনে পড়ে গেল গত পাঁচ বছরের কথা।

    স্ত্রী সুতপার ওভারি ক্যান্সারের চিকিৎসার খরচে সংসার প্রায় ভেঙে পড়েছে।

    ওষুধ কিনতেই মাসের অধিকাংশ টাকা শেষ হয়ে যায়।

    সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে ছেলে-মেয়ের জন্য বছরে একবার পুজোর নতুন জামা কিনে দেওয়াও আজ স্বপ্ন।

    চোখের কোণে জমে ওঠা জল রুমাল দিয়ে মুছে নিলেন তিনি।

    নিজেকে সামলে হেসে বললেন—

    — "হ্যাঁ ভাই, ভিড় বাড়ার আগেই বাজারটা সেরে ফেলি।"

    তারপর ধীরে ধীরে হাঁটতে লাগলেন।

    কিন্তু তাঁর সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে রইল এক অসহায় বাবার নোনা কান্না।

    গল্পের বার্তা

    জীবনের সবচেয়ে বড় সংগ্রাম অনেক সময় বাইরে থেকে দেখা যায় না। বহু মানুষ মুখে হাসি ধরে রেখে প্রতিদিন লড়াই করেন পরিবারের জন্য। সেই নীরব অশ্রুই কখনও কখনও জীবনের সবচেয়ে কঠিন সত্য হয়ে ওঠে।


    উপসংহার

    শেখর দেবনাথের এই দুটি অণুগল্প আমাদের দুটি ভিন্ন বাস্তবতার সামনে দাঁড় করায়। একদিকে দেশের নিরাপত্তার জন্য একজন সৈনিকের নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ, অন্যদিকে অসুস্থ স্ত্রী ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে লড়াই করা এক সাধারণ বাবার অসীম কষ্ট। সংক্ষিপ্ত পরিসরেও লেখক গভীর মানবিক অনুভূতি ও বাস্তব জীবনের অনুচ্চারিত সত্যকে অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরেছেন।


    লেখক পরিচিতি

    শেখর দেবনাথ পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ থানার অন্তর্গত গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। সাহিত্যের ছাত্র হিসেবে তিনি ছোটবেলা থেকেই বাংলা সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত। অনুগল্প ও কবিতা লেখা এবং পড়া তাঁর অন্যতম প্রিয় অনুশীলন। সহজ অথচ হৃদয়স্পর্শী ভাষায় মানবজীবনের অনুভূতি, সমাজবাস্তবতা এবং দেশপ্রেমকে তুলে ধরাই তাঁর লেখার বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

    যোগাযোগ:
    shekhar1995debnath@gmail.com


    লেখা পাঠানোর নিয়মাবলী

    আপনারা আপনাদের মূল্যবান লেখা নির্দ্বিধায় আমাদের কাছে পাঠাতে পারেন। আমরা তা আমাদের অনলাইন ম্যাগাজিনে প্রকাশ করব।

    ইমেল আইডি:
    contact.okopotanusandhan@gmail.com

    লেখার ফরম্যাট

    অভ্র ইউনিফাইড টাইপ কিবোর্ডে টাইপ করে লেখা পাঠাতে হবে।

    ইমেলে যা উল্লেখ করবেন

    • আপনার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
    • কোন ক্যাটাগরিতে লিখছেন তা অবশ্যই উল্লেখ করবেন।

    একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

    0মন্তব্যসমূহ
    একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
    To Top