সৈনিক-রিংকি পাল || অণুগল্প || অকপট অনুসন্ধান

0
সৈনিক-রিংকি পাল 

বৌভাতের পরের দিনই পবনকে চাকরীতে চলে যেতে হয়।পবনের মাত্র এক সপ্তাহের ছুটি ছিল।পবনের নতুন বিবাহিত স্ত্রী সোমা শ্বশুর বাড়ীতেই থেকে যায়।এভাবে তাদের বিয়ের তিনমাস যেতে না যেতে পবন একদিন ফোন করে জানায় যে ওর কাশ্মীরে পোস্টিং হয়েছে।সেখানে নেটওর্য়াকের ভিষণ সমস্যা। রোজ বাড়ীতে যোগাযোগ করা সম্ভব হবে না। এভাবে আরো কয়েক দিন যেতে থাকে।তবে হঠাৎ একদিন বাড়ীতে ফোন আসে পবন আর নেই।আততায়ীদের সাথে লড়ে পবন শহীদ হয়েছে। ওর লাশ অব্দি খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।এইসব শুনে সোমার পায়ের তলার মাটি যেন সরে যায়। সোমা নিস্তব্দ হয়ে যায়।সোমা কিছুই বলতে পারছে না।যেন বোবা, কালা হয়ে গেছে সে।ফোন হাত থেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।সোমা যেন পাথর হয়ে যায়।কিছুখন যাওয়ার পর শ্বাশুড়িমা এর ডাকে পাথরে প্রাণ ফিরে আসে।

সোমা কিছুই বোঝে উঠতে পারছে না কি করে শ্বাশুড়িমাকে এসব জানাবে।কিন্তু তাদের তো বলতেই হবে। সোমা পবনকে কথা দিয়েছিল যে পবনের মৃত্যুর খবরে ভেঙ্গে না পড়ে শ্বশুর, শ্বাশুড়িকে আগলে রাখবে।এইসব কথা মনে হতেই সোমা চোখের জল মোছে হাসি মুখ করে বলে"তোমাদের ছেলে ভালো আছে। সে বাড়ীতে আসবে না।"শ্বাশুড়িমা বৌমার মুখে এরকম কথা শুনে চুপ করে যান।ঠিক তখন সোমা বলে "আমিও তোমাদের ছেলের মতো দেশের কাজে নিজেকে নিয়োজিত করব।"কিছুদিন পর সোমা পুলিশের চাকরী পায়।

সোমা নিজের স্বামীর মৃত্যু যন্ত্রনাকে বুকে চাপা দিয়ে কাজ করতে থাকে।কিন্তু কয়েক মাস যেতেই সোমাও দুষ্কৃতিকারীদের হাতে প্রাণ হারায়।সে দিন পবনের মা, বাবা সোমার নিথর শরীর দেখে এক ফোটাও চোখের জল না ফেলে বলেন"সৈনিকের পরিবারকে কখনো চোখের জল ফেলতে নেই ।"

লেখা পাঠানোর নিয়মাবলী

আপনারা আপনাদের মূল্যবান লেখা নির্দ্বিধায় আমাদের কাছে পাঠাতে পারেন। আমরা তা আমাদের অনলাইন ম্যাগাজিনে প্রকাশ করব।

ইমেল আইডি: contact.okopotanusandhan@gmail.com

লেখার ফরম্যাট: অভ্র ইউনিফাইড টাইপ কিপ্যাডে টাইপ করে লেখা পাঠাতে হবে।

ইমেলে যা উল্লেখ করবেন: আপনার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি এবং কোন ক্যাটাগরিতে লিখছেন তা উল্লেখ করতে ভুলবেন না।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
To Top