মা- নির্মাল্য পণ্ডিত
সারাবিশ্ব যখন গৃহবন্দী
জীবন কাটাচ্ছে, সমস্ত অফিস, আদালত, বিদ্যালয় এর কাজ যখন বন্ধ, চারিদিকে মানুষ যখন এক জরুরি ছুটি কাটাচ্ছেন, তখনও একজনের
কিন্তু কোনো ছুটি নেই, তিনি সেই ব্যস্ত তম দিন গুলিতেও যেমন কর্মরত ছিলেন এখনও তেমন ভাবেই সব কাজ
একা হাতে সামলে যাচ্ছেন। তিনি আর কেউ নন আমাদের মা।এই যে ধরুন না, আমি, আপনি কাজ নেই মনে
করে দেরী করে উঠছি, কিন্তু তাকে দেখুন কখন উঠেছেন সেই আগের মতই।সকালে উঠে নিজের সামান্য যত্ন নিয়েই তার কাজ
শুরু হয়ে যায়, ঠাকুর ঘর থেকে শুরু করে আমাদের মুখে সকালের খাবার পৌঁছে দেওয়া, তারপর আবার কে কী
খাবে সব আবদার জেনে রান্নার জোগাড় করা ঠিক টাইমে রান্না সেরে আমাদের মুখে দুপরের আহার
তুলে দেওয়া। এর পরেও তার কাজের কোন শেষ নেই।সারাদিন কাজ আর কাজ, তিনি একদিকে যেমন
রাধুনি, একদিকে পরিবারের ডাক্তার, একদিকে ইঞ্জিনিয়ার ও বলতে পারেন।সত্যি! তো তিনি হয়তো কোনো একটা বিষয় ডিগ্রি
অর্জন করেছেন কিন্তু একবার ভালো করে ভাবুন তো, সংসারে তিনি
কতরকম কাজ করেন, কতো বুদ্ধি তার! তিনি হয়তো অর্থনীতি নিয়ে পড়াশুনা করেন নি, কিন্তু তার মতো
অর্থনৈতিক জ্ঞান আপনি কারো কাছে পাবেন না।যখন সংসার কোনো বিশাল বিপদে পড়ে তখন তিনিই তো
তার সমস্ত সঞ্চয় দিয়ে সংসার কে বিপদ মুক্ত করেন।যখন আমরা কোনো জটিল সমস্যার সম্মুখীন হই, যখন সকল কেই
স্বার্থপর বলে মনে হয় তখন একমাএ তিনিই আমার বা আমাদের পাশে থেকে সেই সমস্যার
সমাধান সূত্র খুঁজে দেন।যখন নিজের কাজের শেষে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরতাম
একবার তার হাসিমুখ, তার আঁচলের ছোঁয়া আমাদের সব ক্লান্তি দূর করত।যে সময় সমস্ত নিজের বলে জানা মানুষ গুলো মুখ
ফিরিয়ে নেয় তখন শুধুমাত্র যে মানুষ টাকে আমরা কছে পাই তিনিই মা।
অনেক যন্ত্রণা, না পাওয়ার বেদনাও
অনেক কষ্টে মুখ বুজে সহ্য করে সংসার কে উন্নতির দিকে ঠেলে দিয়েছে যে সেই তো মা।
এই মানুষ টি কোন শক্তিমাণ নন, বা কোনো জাদুকর ও নন, বাস্তবে তিনি
একজন রক্ত মাংসে গড়া সাধারণ মানুষ, তবু এই দুনিয়া মায়ের ক্ষমতার কাছে মাথা নতো করে।
একবার ভাবতেই হয় যে আমারা এই কয়েকটা দিন বাড়িতে
থাকতে হাঁপিয়ে উঠছি, আর মা সে তো এমন ভাবে বছর ধরে ঘরে থেকেই আমাদের জন্য কাজ করে যায়। আমাদের
জীবনের সবচেয়ে ব্যক্তিগত কথা গুলোও আমরা তার কাছে বলি।আমাদের রাগ, ভালোবাসা, আবেগ, আবদার সব একমাএ
তার কাছেই প্রকাশ করতে পারি।আমাদের ছোট থেকে এই বড়ো হয়ে ওঠার এই
জীবনযাত্রায় যার সঙ্গে আমাদের নারির যোগ রয়েছে ,যে আমাদের মুখ
দেখে বলে দিতে পারে যে আমরা কেমন আছি, আমাদের চলার পথের
সঠিক দিশা যে দেখাতে পারে সেই তো মা।
আমাদের সুখেই তার হাসি পায়, আবার আমাদের
দুঃখে তার কান্না পায়।এই পৃথিবীতে মাতৃশক্তির চেয়ে বড়ো কোন শক্তি নেই, যদি পৃথিবীর
সমস্ত শক্তি একত্রিত হয় তবুও এ শক্তির কাছে পরাজয় নিশ্চিত। আমরা দোষ করলে তিনি
আমাদের শাস্তি দেন আবার ভালোবাসা দিয়ে আমাদের আগলেও রাখেন। আমরা তার সন্তান তাই
আমরা যাই করি না কেন, তিনি কখনও চান না আমরা কষ্টে থাকি। মা হারা ব্যক্তি বুঝতে পারে যে সে এই
বিশ্বে কত একা।বর্তমানে আমরা নানা কারণে বা অকারণে মা এর সাথে
দুর্ব্যবহার করে থাকি, তাকে ভুল বুঝে থাকি, হয়তো কখনো কটু কথা বলে ফেলি। আর এর জন্যই আমরা কষ্ট পাই, কিন্তু বিশ্বাস
করুন মা কিন্তু ছেলের কখনো ক্ষতি চান না বরং তিনি প্রার্থনা করেন যাতে আমাদের
সুমতি হয়, আসলে " কুপুত্র যদিও বা হয় কুমাতা কখনো নয়"।
আমরা যদি তাকে আঘাত করি বা তার চোখে যদি জল আসে
তবে সেই জল আমাদের জীবনের চলার পথ কে পিচ্ছিল করে দেয়, আর যার জন্য পড়ে
যাই আমরা ।মা এমনই একজন ব্যক্তি যার গূনের কথা বলে কখনো
শেষ হবে না। তাই পৃথিবীর সব মা ভালো থাকুক, না হলে এই পৃথিবী
একদিন মরুভূমি হয়ে যাবে।
লেখা পাঠানোর নিয়মাবলী
আপনারা আপনাদের মূল্যবান লেখা নির্দ্বিধায় আমাদের কাছে পাঠাতে পারেন। আমরা তা আমাদের অনলাইন ম্যাগাজিনে প্রকাশ করব।
ইমেল আইডি: contact.okopotanusandhan@gmail.com
লেখার ফরম্যাট: অভ্র ইউনিফাইড টাইপ কিপ্যাডে টাইপ করে লেখা পাঠাতে হবে।
ইমেলে যা উল্লেখ করবেন: আপনার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি এবং কোন ক্যাটাগরিতে লিখছেন তা উল্লেখ করতে ভুলবেন না।


